Fact Check: ৭৪ বছর পর ভাইদের পুনর্মিলনের ভিডিও মিথ্যা সাম্প্রদায়িক রঙ সহ ভাইরাল

0 413

সম্প্রতি দুই ভাইয়ের, যারা ‌১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের সময় আলাদা হয়ে গিয়েছিল, পুনর্মিলনের একটি হৃদয়গ্রাহী ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় (‌ social media )‌ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে বৃদ্ধ ভাইদের এক অশ্রুসিক্ত পুনর্মিলন দেখা যাচ্ছে। এদের একজন ভারত থেকে এবং অন্যজন পাকিস্তান থেকে গিয়েছিলেন, এবং কর্তারপুর করিডোরে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন।

এখন, ৭৪ বছর পর দুই ভাইয়ের সাক্ষাতের এই ভিডিও একটি সাম্প্রদায়িক দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে যে তাঁরা শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও যে ভাই পাকিস্তানে থেকে গিয়েছিলেন তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী (‌ Facebook user  )‌ এই ক্যাপশন সহ ভিডিওটি শেয়ার করেছেন, “দুই শিখ ভাই ১৯৪৭ সালে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। যিনি ভারতে এসেছিলেন তিনি শিখই থেকে যান। যিনি পাকিস্তানে থেকে গেলেন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। ভারতীয় শিখ গর্ব করে বলতে পারেন, ‘‌‘‌ওয়াহ গুরু জি দা খালসা, ওয়াহ গুরু জি দি ফতাহ।’‌’‌ পাকিস্তানি ভাইকে বলতে হবে ‌‘‌‘‌আল্লাহু আকবর।’‌’‌‌

একই ক্যাপশন সহ ভিডিওটি টুইটারেও (‌ Twitter  )‌ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে।

Fact Check

নিউজমোবাইল ভাইরাল দাবির সত্যতা যাচাই করেছে এবং দেখেছে এটি বিভ্রান্তিকর।  ভাইরাল দাবির বিপরীতে দুই ভাই–ই মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

ভাইদের পুনর্মিলনের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ব্যাপক মিডিয়া (‌ media )‌ কভারেজ পেয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের (‌ Indian Express )‌ একটি নিবন্ধ বিশদ বিবরণ দিয়েছে কীভাবে ১৯৪৭ সালে এই দুই ভাই আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন এবং অবশেষে ২০২২ সালে দেখা হল। নিবন্ধ অনুযায়ী তাঁদের নাম হাবিব ওরফে সিক্কা খান এবং সাদিক খান।

সাদিক খান বর্তমানে পাকিস্তানের বগরান গ্রামে (ফয়সালাবাদের কাছে) বাস করেন, আর সিক্কা খান এখন ভারতের বাথিন্দার ফুলেওয়ালা গ্রামে থাকেন।

নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সিক্কা খান এবং তাঁর আত্মীয়রা ফুলেওয়ালা গ্রামে বসবাসকারী সাতটি মুসলিম পরিবারের অন্যতম।

পাকিস্তানি ইউটিউবার নাসির ধিলোঁ এবং তাঁর ইউটিউব চ্যানেল পাঞ্জাবি লেহারের (‌ Punjabi Lehar   )‌ প্রচেষ্টায় ভাইদের দেখা হয়েছিল। ২০১৯ সালে ধিলোঁ এঁদের গল্পটি জানতে পেরেছিলেন এবং তাঁর চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওটিতে সাদিকের আবেদনে বলা ছিল তিনি তাঁর সেই ভাইকে খুঁজছেন যাঁর থেকে তিনি দেশভাগের সময় আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন।

ভিডিওটি ভারতের বাথিন্ডায় সিক্কার গ্রামের গ্রামীণ চিকিৎসক জগসির সিংয়ের চোখে পড়ে এবং তিনি ধিলোঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে সিক্কা সম্পর্কে অবহিত করেন।

শীঘ্রই, ২০১৯ সালে, ভাইয়েরা কথা বলেন এবং ছবি বিনিময় করেন। তাঁদের প্রথম যোগাযোগ পাঞ্জাবি লেহারে আপলোড করা হয়েছিল, যা এখানে ( here )  দেখা যেতে পারে। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় দুই ভাই আলাদা হয়ে যান। সেই সময় হাবিব তাঁর মায়ের সঙ্গে ফুলেওয়ালায় তার মাতামহের গ্রামে গিয়েছিলেন। আর সেই সময়েই হিংসা শুরু হয়েছিল, যার কারণে তাঁদের বাবা ওয়ালি মুহাম্মদ প্রাণ হারান।

২০২২ সালে ভাইরা অবশেষে সমস্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করার পরে একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তাঁদের দেখা করা প্রাথমিকভাবে ২০২০ সালের মার্চের জন্য স্থির করা হয়েছিল, কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিলম্বিত হয়েছিল।

তাই উপসংহারে বলা যায় বিভ্রান্তিকর দাবি করে দুই ভাইয়ের পুনর্মিলনের ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে।