Fact Check: মধ্যপ্রদেশে এক‌দল লোকের একটি মেয়েকে মারার দৃশ্যকে অসত্যভাবে উত্তরপ্রদেশের ঘটনা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে

0 506

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে যাতে দেখা যাচ্ছে একদল লোক লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে একটি মেয়েকে মারধর করছে। দাবি করা হচ্ছে যে এই ভিডিওটি উত্তরপ্রদেশের।

এরপরেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি ছেলে ক্যামেরার সামনে তার বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাচ্ছে ভিডিওটি শেয়ার করার জন্য। ছেলেটিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‌বন্ধুরা আমি সম্প্রতি একটি ভিডিও আপলোড করেছি যেটি আমার বোনের মৃতদেহ। ঠিকানা হল লোদিপুর, বিশনোই। বন্ধুরা, এখন আমি থানায় রয়েছি। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শুধু আপনারাই কিছু করতে পারেন। এটি হল মাজোলি থানা।’‌ তারপর ওই ভিডিওয় আবার মেয়েটিকে মারার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

ফেসবুকে এই ভিডিওটি শেয়ার করা হচ্ছে একটি হিন্দি ক্যাপশন দিয়ে। অনুবাদ করলে তা দাঁড়ায় ‘‌বিষ্ণুপুরে দুষ্কৃতীরা একটি মেয়েকে কীভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলল দেখলে আপনি বিস্মিত হবেন।’‌

(‌মূল ভাষ্য:‌ लोदीपुर विश्नोई में दरिंदों ने महिला को पीट-पीट कर उतारा मौत के घाट, आप भी देखकर हो जाएंगे दंग)

এখানে উপরের পোস্টে‌র (‌ post )‌ লিঙ্ক দেওয়া হল। আরও এরকম পোস্ট দেখুন (‌ here )‌ এখানে। (‌দর্শকদের বিবেচনা কাম্য)‌।

Fact Check

নিউজ মোবাইল এ‌ই ভাইরাল ভিডিওর ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছে যে উপরের দাবিটি ভুয়ো।

এই ভিডিওটি দেখে আমরা বুঝতে পারি যে স্পষ্টতই এখানে দুটি ভিডিও ক্লিপকে একসঙ্গে মেশানো হয়েছে। কাজেই আমরা ভিডিওগুলিকে আলাদা আলাদাভাবে পরীক্ষা করি।

প্রথম ভিডিও

আমরা ভাইরাল ভিডিওটির কিফ্রেমগুলির রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ২০২১ সালের ২ জুলাই প্রকাশিত কিছু নিউজ রিপোর্ট (‌ news reports )‌ দেখতে পাই, যাতে ওই ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল।

ওই রিপোর্টগুলি অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলায়। ১৯ বছরের একটি মেয়ে বিয়ের পর অসুখী ছিল এবং অনেক সময় বাড়িতে হিংসার শিকার হত। সে যখন তার শ্বশুরবাড়ি থেকে দ্বিতীয়বার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তার নিজের পরিবার তাকে মারধর করে।



আরও অনুসন্ধান চালিয়ে আমরা হিন্দুস্তান টাইমস (‌ Hindustan Times )‌-এর একটি একটি রিপোর্ট দেখতে পাই। ২০২১ সালের ৩ জুলাই ইউটিউবে এই ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়েছিল, ‘‌মধ্যপ্রদেশে একটি মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তার পরিজনরা মারছে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণে।’‌

https://www.youtube.com/watch?v=010Ul9z3hWE

এই রিপোর্টে আলিরাজপুর‌–এর এসপি –কে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‌একটি মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণে তার পরিজনরা মারধর করে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ফুত্তালব গ্রামে। আমরা বোরি থানায় মামলা রুজু করেছি। ওই মেয়েটির ভাইয়েরা আইপিসি–র সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি অনুযায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে।

আমরা মোরাদাবাদ পুলিশের একটি টুইট (‌ tweet )‌ দেখতে পাই। এতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশ আলিরাজপুরের

https://twitter.com/moradabadpolice/status/1412372187059683330?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1412372187059683330%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fnewsmobile.in%2Farticles%2F2021%2F07%2F09%2Ffact-check-video-of-men-beating-a-girl-in-madhya-pradesh-falsely-shared-as-that-from-uttar-pradesh%2F

দ্বিতীয় ভিডিও

এরপর আমরা ভিডিওটির দ্বিতীয় অংশ খতিয়ে দেখি। সেখানে দেখা যাচ্ছে থানার সামনে একটি ছেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার পেছনে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে মোরাদাবাদ থানা। ছেলেটি লোদিপুর বিশনোই ও মাজোলি থানার কথা বলছে। আমরা এই শব্দগুলো ব্যবহার করে কিওয়র্ড সার্চ করে দেখতে পাই ২০২১ সালের ১৭ জুন ইউটিউবে (‌ YouTube )‌ এই ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। মিডিয়া রিপোর্ট ( media reports)  অনুযায়ী ভাইরাল ভিডিওর মেয়েটিকে মারধোর করার ঘটনা ঘটেছিল জুলাই মাসে।

https://www.youtube.com/watch?v=ob8a0W2QsDk

ভিডিও বিবরণে বলা হয়েছে, ‘‌উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এক বিবাহিত মহিলার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাটি ওই জেলার মাজোলি থানা এলাকার। তার বোনকে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ থেকেই সে সামাজিক মাধ্যমে সাহায্য চাইছে, কারণ পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’‌

আমরা এরপর খবরে কী বেরিয়েছিল তার সন্ধান করে দেখতে পাই ২০২১ সালের ১৪ জুন ‘‌দৈনিক জাগরণ’ (‌ Dainik Jagran  )‌ পত্রিকায় একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ঘটনাটি ঘটেছে লোদিপুরের জওহর নগর এলাকায়। মৃত রিংকির দেহ একটি মন্দিরের প্রবেশপথে ঝুলতে দেখা যায়। ওই খবরে আরও বলা হয়েছিল, তার বিয়ে হয়েছিল ২০২১ সালের ১ জুন। আর তার পরিবারের লোকজন তার শশুর বাড়ির লোকজনকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছে।

কাজেই এটা স্পষ্ট যে দুটি ভিডিও একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ২০২১ সালের ৫ জুলাই তাদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডল (‌ Twitter handle )–এ মোরাদাবাদ পুলিশও ভাইরাল ভিডিও দাবি অস্বীকার করেছিল।

https://twitter.com/moradabadpolice/status/1412050776269025283?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1412050776269025283%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fnewsmobile.in%2Farticles%2F2021%2F07%2F09%2Ffact-check-video-of-men-beating-a-girl-in-madhya-pradesh-falsely-shared-as-that-from-uttar-pradesh%2F

স্পষ্টতই মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের দুটি আলাদা ঘটনাকে একত্র করা হয়েছে এমনভাবে যাতে মনে হয় সেটি একটিই ঘটনা যেটি উত্তরপ্রদেশে ঘটেছিল। কাজেই ভাইরাল হওয়া দাবিটি বিভ্রান্তিকর।