Fact Check: না, এই ভিডিওতে অনুপ্রবেশকারীদের পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে না;‌ এই ছবিটি মায়ানমারের

0 346

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে যাতে দেখা যাচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বহু মানুষ কোথাও ঢুকে পড়ছেন। দাবি করা হচ্ছে, এঁরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছেন।

বাংলায় লেখা এই ফেসবুক পোস্টটি বলছে:‌ “বাঙালীর পেটে লাথি মেরে হাজার হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা বাংলায় ঢুকছে এতে বাঙালীর বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই”

এখানে ওপরের পোস্ট–এর লিঙ্কটি দেখুন (‌ post )।‌

এমন আরও পোস্ট দেখুন এখানে (‌ here and here)।‌

Fact Check

নিউজ মোবাইল এই পোস্টের ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছে যে এটি অসত্য।

আমরা ইনভিড টুল ব্যবহার করে এই ভিডিওটির কিফ্রেমগুলি বার করে নিই, এবং তারপর সেগুলির রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। সেইখান থেকে আমরা পৌঁছে যাই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তুর্কি মিডিয়া ওয়েবসাইট আকসু টিভি হাবের (‌ Aksu TV Haber )‌–এর ইউটিউবে আপলোড করা একটি ভিডিওতে। এই ভিডিওয় দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী এই ক্লিপটি মায়ানমারের আরাকান অঞ্চলের গ্রামের দৃশ্য।

তুরস্কের মিডিয়া ওয়েবসাইট যে বিবরণ দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, প্রচুর সংখ্যায় রোহিঙ্গা মুসলিমরা এই অঞ্চল থেকে মায়ানমার সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র রোহিঙ্গা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পালাচ্ছেন। এই রাখিন স্টেটে অনেক মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদলু এজেন্সি ( Anadolu Agency  )–ও‌ ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই একই ভিডিও পোস্ট করেছিল। তার শিরোনামটির মোটের উপর অনুবাদ হল এইরকম:‌ ‘‌রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ পালাচ্ছে।’‌

রয়টার্স (‌ Reuters )‌–এর ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্টের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ‘‌মায়ানমারের মুসলিম জঙ্গিরা রাখিন স্টেটে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাঘাঁটির ওপর সমন্বিত আক্রমণ চালায়, এবং সেই ঘটনায় অন্তত ৫৯ জন জঙ্গি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন মারা যায় বলে সরকার ও সেনাবাহিনী জানিয়েছে।’‌

এরপরে রাখিন স্টেটের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সাংঘাতিক দমন প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়। হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যান। সেই সময় স্থানীয় অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে সামরিক বাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে থাকে এবং অসামরিক ব্যক্তিদের আক্রমণ ও খুন করতে থাকে। বিবিসি (‌ BBC )‌ ও আল জাজিরা (‌ AlJazeera )‌–র সেই সময়কার রিপোর্টগুলি দেখুন।

উপরে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে যা দেখা যাচ্ছে তা পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা নয়। অতএব এই পোস্টটি অসত্য।