সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একটি বুলডোজার দিয়ে হিন্দু দেবতার মতো দেখতে একটি বিশাল সোনালি মূর্তি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে যে বাংলাদেশে একজন হিন্দু দেবতার মূর্তি ধ্বংস করা হয়েছে, যা অনলাইনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী নিম্নলিখিত ক্যাপশনসহ ভাইরাল পোস্ট টি শেয়ার করেছেন:
ബഗ്ളാദേശിലെ കാഴ്ചകൾ പേടിപ്പേടുത്തുന്നതാണ്

আপনি পোস্টটি দেখতে পারেন এখানে ।
NM VERIFIED
নিউজমোবাইল ভাইরাল পোস্টটি পরীক্ষা করে দেখেছে এবং দাবিটি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, একাধিক নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে একই ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ছবিটি বাংলাদেশের নয়।
এনডিটিভি-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি কম্বোডিয়ার একটি মন্দির প্রাঙ্গণে বিষ্ণুমূর্তি ভাঙার দৃশ্য। ঘটনাটি ২২শে ডিসেম্বর থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে উত্তেজনার সময় ঘটেছিল। থাই সেনাবাহিনী আন সেস অঞ্চলে মূর্তিটি ধ্বংস করে দেয়। জানা গেছে, বিষ্ণুমূর্তিটি ২০১৪ সালে স্থাপন করা হয়েছিল।

ইউটিউবে আরেকটি টাইমস নাউ-এর ভিডিও প্রতিবেদনেও একই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি অনুসারে, ভারত থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের প্রেয়াহ বিহার মন্দিরের কাছে বিষ্ণুমূর্তি ধ্বংসের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
দ্য ইকনমিক টাইমস এবং দ্য হিন্দু -সহ আরও বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিশ্চিত করেছে যে মূর্তিটি কম্বোডিয়ায় অবস্থিত ছিল এবং ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার নিন্দা করেছে।

ভারতের নিন্দার পর থাই কর্তৃপক্ষ মূর্তি ভাঙার বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা জারি করেছে। দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি বিবৃতি অনুসারে, থাই-কম্বোডিয়ান সীমান্ত প্রেস সেন্টার বলেছে যে মূর্তিটি সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছিল এবং এটি অপসারণের উদ্দেশ্য কোনো ধর্ম বা বিশ্বাসকে অসম্মান করা ছিল না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, থাই বাহিনী তাদের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর নিরাপত্তা ও অভিযানগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বাংলাদেশে একজন হিন্দু দেবতার মূর্তি ধ্বংস করার দৃশ্য দেখানোর দাবি করা ভাইরাল পোস্টটি মিথ্যা।